সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে, Amazon এর ৩.৩৬ কোটি টাকা বেতনের চাকরি ছাড়লেন মনোজ। কিন্তু কেন ?

Manoj Tumu

শুনতে খুবই অবাক লাগছে তাইতো ? মনোজ তুমু যিনি একজন ২৩ বছর বয়সী ভারতীয় – মার্কিন তরুণ প্রকৌশুলি, তিনি Amazon এর $৪০০,০০০ মানে আনুমানিক প্রায় ৩.৩৬ কোটি টাকার চাকরি ছেড়ে দিলেন মেটা তে  AI পদের জন্য, যা শুনতে সত্যি অবাক করার মতো।  তিনি বর্তমান মেটা তে কমর্রত একজন মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার AI & ML, তার carrer এর যাত্রা সবে শুরু করেছেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মেশিন লার্নিং ছাত্রছাত্রী দের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। এর দ্বারা বর্তমানের বহু ছাত্রছাত্রী রা উপকৃত হবেন।

  মনোজ টুমু , এই সাবজেক্ট এর একটি বিশেষদিক আলোকপাত করেন, তিনি মূলত ইন্টার্নশিপ এবং ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার উপরি বেশি জোর দেন। তিনি শিক্ষাথীদেড় উদ্দেশে বলেন, তারা যেন কলেজ পড়া কালীন ইন্টার্নশীপ এর ওপর অনেক বেশি করে জোর দেয়। এই সময় তাদের বেতন কম হলেও কোনো অসুবিধা নেই , বরং ইন্টার্নশীপ করলে তাদের ভিত্তি অনেক মজবুত হবে এবং সেই সাথে কোম্পানি লেভেল এক্সসারসীজের সাথেও তারা ভালো ভাবে পরিচিত হয়ে যাবে। পরবর্তীকালে যখন তারা কোনো কোম্পানি তে কাজ করবে তখন এই ইন্টার্নশীপ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাই তাদের কাজ লেগে যাবে, এবং বেতন অনেক ভালো হয়ে যাবে। 

    মনোজ ক্যারিয়ার এর পথটিকে একটি বিশেষ রূপ দিয়েছেন।  তিনি বলেছেন, যে কিভাবে তিনি শুরু থেকেই বিভিন্ন্য ধরণের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্যেই দিয়ে গেছেন , অৱশ্যই এর নেপথ্যে আছে তার অমানুষিক  পরিশ্রম, যা তার ক্যারিয়ার এর পথটিকে অত্যন্ত মসৃন করে তুলেছে।  এটি আবার বিসনেস ইনসাইডার এর জন্য একটি প্রবন্ধে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।   

মনোজ টুমু আরো ব্যাখ্যা করেন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মেশিন লার্নিং সাবজেক্ট টি অনেক পরিবর্তন ঘটে গেছে আগের তুলনায়। এর মধ্যেই বিভিন্ন্য প্রকার কৌশল নেটওয়ার্ক দ্বারা চালিত শিক্ষার দিকে ধাবিত হচ্ছে যা অত্যন্ত গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। 

একজন প্রযুক্তি পেশাদার হয়ে মনোজ প্রকাশ করেন, যে আকর্ষণীয় বেতন হওয়া সত্ত্বেও তিনি ফিউচার অনেক অবদান রাখতে চান , যা তার স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করবে।

 মনোজ এর কাছ থেকে জানা যায়, যে তিনি কাজের সন্তুষ্টিকে অনেক বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন একটি কোম্পানি তে মোটা অংকের বেতনের থেকে। এতে মানসিক শান্তিও বজায় থাকে, এবং বেক্তিগত ভাবে বৃদ্ধি হয় অনেক বেশি।  বহু তরুণতরুণী তার এই সিদ্ধান্তের দিকে বিশেষ ভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যা পরবর্তীকালে বিভিন্ন্য ক্লাস বহুজাতিক কোম্পানিগুলিতে চাকরি পেয়ে কাজ করতে বিশেষ ভাবে সহায়তা করবে।  তার এই সিদ্ধান্তে, তরুণতরুণীরা খুবই খুশি হয়েছেন, এবং সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। মনোজ এর এই বিশেষ সিদ্ধান্ত থেকে বলা যায় যে সাফল্য সবসময় কেবল অর্থ দ্বারা বিচার করা সম্ভব নয়। তিনি যে পথটি বেছেছেন তা ভীষণ ভাবে উল্লেখযোগ্য।   

   মনোজ এর ২৩ বছর বয়সী ক্যারিয়ার জীবন খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক।  ভাবতে খুবই অবাক লাগে যে যেখানে এদেশেই এখনো কত মানুষ বেকার রয়েছেন সেখানে মনোজ টুমু Amazon কোম্পানি যা বিশ্বের অন্যতম সেরা বহুজাতিক কোম্পানি, তার চাকরি ছেড়ে দেন। সেখানে তার বেতন ছিল প্রতি বছর প্রায় ৪০০,০০০ ডলার , যা আনুমানিক প্রায়  ₹.৩৬ কোটি , যার মধ্যে বেতন, বোনাস এবং বিভিন্ন্য প্রকার স্টক ইনক্লুড করা ছিল  Amazon কোম্পানি তে এত মর্যাদার থাকা সত্ত্বেও মনোজ সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াকেই বেছে নেন এবং Meta জয়েন করেন। একই ধরণের মাইলফলকএর স্বপ্ন অনেকেই দেখে থাকেন, তাই সব মিলিয়ে বলা যায় মনোজ এর সিদ্ধান্ত সবাইকে অবাক করে দেবার মতো।      

তিনি আরো বলেছেন, বর্তমানে ChatGPT এসে যাওয়ায় এর প্রতিযোগিতা আরো বেড়ে গেছে, যেখানে মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার এর মতো পদ তৈরি হচ্ছে।  বর্তমানে তার Meta তে নিজের অত্যাধুনিক গবেষণা, এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে কোম্পানিটির AI এর কৌশলগত দিক দিয়ে শীর্ষে থাকার চেষ্টা করে। যা তার মূল লক্ষ হিসাবে বিবেচিত হয়।  

মনোজ অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে ইন্টারভিউ এর সময় অপ্রস্তুত থাকার  বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ ভাবে সতর্ক করেছেন। যা ছাত্রছাত্রীদের সব থেকে বড় ভুল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।  Meta তে তার ইন্টারভিউ পক্রিয়ার মধ্যে ছিল একটা Meta  কল, ৬টি রাউন্ড কোডিং, এবং মেশিন লার্নিং সাবজেক্ট থেকে বিভিন্ন্য প্রকার প্রশ্ন।   

পরিশেষে এটাই বলা যায় যে, সাফল্য কেবলমাত্র মোটা অংকের বেতন দিয়েই পরিমাপ করা সম্ভব নয়, এবং তাই তিনি Amazon এর .৩৬ টাকার অংকের চাকরি ছেড়ে দিতে পেরেছেন।  এর দ্বারা বলা যায়, তিনি তার হৃদয়ের কথা শুনেছেন এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাবার পথই অনুসরণ করেছেন।  

Exit mobile version