১১ আগস্ট, ২০২৫ সালের সোমবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারামন একটি আয়কর বিলের সংশোধিত সংস্করণ বিল পেশ করেছেন, যেটি নতুন আয়কর বিল নামেও জানা যায়। বৈজয়ন্ত পান্ডার নেতৃত্বাধীন সিলেক্ট কমিটির বেশিরভাগ সুপারিশ গুলি এই বিল এর অন্তর্ভুক্ত।
যখন বিল টি লোক সভায় প্রকাশ হচ্ছিলো তখন অর্থ মন্ত্রী শ্রীমতি নির্মলা সীতারামন বলেন যে সঠিক আইনী অর্থ প্রকাশের জন্য পরিবর্তনগুলি বাঞ্চনীয় ছিল, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ বলা যেতে পারে। খসড়া তৈরির বিভিন্ন ধরণে দেখা যায় বাক্যাংশের সারিবদ্ধকরণ, ক্রস-রেফারেন্সিংয়ে সংশোধন ফলস্বরূপ পরিবর্তন করা হয়েছে। সঙ্গে তিনি আরো বলেন যে বিভিন্ন্য প্রকার সমস্যা এড়াতে পূর্ববর্তী বিলটি বাতিল করা হলো।
কিছু সপ্তাহ আগে পুরোনো আয়কর বিল টি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, যেটি একটি ছয় দশক এর পুরোনো আয়কর বিল ছিল । বলা হয় ১৯৬১ সালে প্রতিস্থাপনের জন্য এই বিলটিকে পেশ করা হয়েছিল, এবং ১১ই অগাস্ট ১৯৬১ সালে এর সংশোধিত খসড়া পেশ করা হয়। নতুন বিল টি তে প্রস্তাবিত সংশোধনী গুলি একত্রিত করে নথি হিসাবে প্রকাশিত করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, সংশোধিত খসড়াটিতে ২৮৫ টি সুপারিশের অন্তর্ভুক্তকরণ করা হয়েছে। এটিতে কর প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা হয়েছে। পূর্বে যে ত্রুটি গুলি ছিল সেগুলোকেও দূর করা হয়েছে এই নতুন বিলটিতে। আগের সপ্তাহে সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে ১৯৬১ সালের প্রতিস্থাপিত পুরোনো আয়কর বিলটি বাতিল কর। পুরানো আয়কর বিলটি ১৩ই ফেব্রুয়ারী লোকসভায় উত্থাপন করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে নতুন সংশোধনীও বিলটি অস্পষ্টতা কমাতে, বেশ কয়েকটি খসড়া ত্রুটি চিহ্নিত করেছে, আর তার সাথে সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে।
এখানে বিশদ ভাবে যে কটি ধারা সংশোধন করা হয়েছে তা নিম্নলিখিত বর্ননার দ্বারা পেশ করা হলো।
ধারা ১৯ (বেতন কর্তন – তফসিল VII): যারা তহবিল থেকে পেনশন গ্রহণ করেন, সেই সব অ-কর্মচারীদের জন্য নতুন পেনশন প্ল্যান নিয়োগ করা হলো।
ধারা ২০ (বাণিজ্যিক সম্পত্তি): যে ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান গুলি বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সেগুলির কর, গৃহকর হিসাবে দিতে হবে।
ধারা ২১ (সম্পত্তির বার্ষিক মূল্য): বাড়ি ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে বাড়ির সঠিক ভাড়ার সাথে কম সংখক ভাড়ার তুলনা করা হয়েছে।
ধারা ২২ (বাড়ির সম্পত্তির আয় থেকে কর্তন): মিউনিসিপাল ট্যাক্স এর ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ স্ট্যান্ডার্ড কর্তন প্রযোজ্য হবে যেখানে নির্মাণ-পূর্ব সুদের কর্তন ভাড়া দেওয়া সম্পত্তিতেও গ্রহণযোগ্য হবে।
বৈজয়ন্ত পান্ডার মতে, আইনি বিভ্রান্তি কমাতে, এবং পুরোনো কাঠামোকে সহজ করে তুলতে নতুন বিলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ করবে। এছাড়াও যারা বেক্তিগত কর দাতা আছেন, এবং এমএসএমইগুলিকে অপ্রয়োজনীয় মামলা হবার হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে।
১৯৬১ সালে যে আয়কর আইনটি ছিল তাতে ৪,০০০ এরও বেশি সংশোধন করা হয়েছে, এবং বর্তমানে আইনটিতে এত অধিক শব্দ রয়েছে যা এটিকে খুব কঠিন করে তুলেছে।
পান্ডার মতে, নতুন বিলটি সাধারণ যারা করদাতা আছেন তাদের কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছে। এছাড়াও নতুন বিলটি আইনটিকে সরলীকৃত করে তুলেছে। প্রস্তাবিত এই নতুন সংশোধিত বিলটিতে সকল করদাতার সুবিধার্থে স্ল্যাব এবং হার সমন্বয় করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে নতুন পরিকাঠামো অনুযায়ী মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য করের হার অনেক কমে যাবে। এই বিলটিতে তাদের হাতে আরও ব্যয়যোগ্য আয় ছাড় দেবে এবং খরচ,সঞ্চয় প্রভৃতি বিনিয়োগে ব্যাপক হরে বৃদ্ধি করবে।
ধ্রুব এডিবিসর এর সিইও দীনেশ কানাবার বলেন, বিধানগুলি অধ্যয়ন করার সময়, আমরা বেশ কিছু ভালো পরিবর্তন এই নতুন সংশোধিত বিলটিতে দেখতে পাচ্ছি, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমন অনেক বিধানের বিরুদ্ধে পূর্বে থেকেই প্রতিনিধিত্ব করা হয়েছিল।
বাস্তবে বলা যেতে পারে এটি একটি খুবই স্বাগত পরিবর্তন, যা সিলেক্ট কমিটির কাছে যথেষ্ট ফলপ্রসূ হয়েছে, এবং সকলেই এই বিলটিকে সমর্থন করেছেন।